একাত্তরে পাক বর্বরতার সংবাদভাষ্য

স্বাধীন বাংলাদেশ-এর অভ্যুদয় একটি সর্বজনীন স্বাধীনতাযুদ্ধের মাধ্যমে, বহুসংখ্যক বাঙালি নরনারীর জানমাল-সম্ভ্রমের বিনিময়ে । তা সত্ত্বেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের চৈতন্যের প্রয়োজনীয় মাত্রায় স্পর্শ করে নি । এমন কি আমাদের জাতি- জাতীয়তাবোধ ও রাষ্ট্রীয়গণতান্ত্রিকতা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন । প্রশ্ন ইতিহাস-চেতনা নিয়েও ।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে একাত্তরের যুদ্ধশেষ অবধি সময়-পরিসরে দেশী-বিদেশী ( মূলত বিদেশী )পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনাবলীর সংবাদভাষ্য নিয়ে বিচার বিবেচনা ও মূল্যায়ন এবং সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তি- পরাশক্তির ভূমিকা বিচার এ বইয়ের আলোচ্য বিষয় । তাছাড়া রয়েছে উল্লিখিত সংবাদভাষ্যে পরিস্ফুট রাজনীতি ও পাক-বর্বরতার চরিত্রবিচার এবং হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টের ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে পাক শাসক ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা মূল্যায়ন । উদ্দেশ্য অতীত ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকিয়ে বাঙালি যেন নিজেকে খুঁজে পায়, বুঝে নিতে পারে কোথায় তাদের ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি ।

চেঙ্গিস খানঃ সব মানুষের সম্রাট

রোমেন রুমি

চেঙ্গিস খানঃ সব মানুষের সম্রাট
মূলঃ হ্যারল্ড ল্যাম্ব
অনুবাদঃ যায়নুদ্দিন সানী

হ্যারল্ড ল্যাম্বের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বই “চেঙ্গিস খানঃ এম্পেরর অব অল ম্যান” এটি মুলত একটি নন-ফিকশন হিস্টরিক্যাল বায়োগ্রাফি। যেখানে চেঙ্গিস খানের মত একটি ঐতিহাসিক চরিত্রকে এবং তাঁর সময়কে বর্ণনা করা হয়েছে সুনিপুণ দক্ষতার সাথে অবশ্য হ্যারল্ড ল্যাম্বের মত এমন একজন লেখকের কাছে এটা পাঠকের তথা ইতিহাস পিপাসুদের প্রত্যাশিত। এমন একটি বই বাংলায় “চেঙ্গিস খানঃ সব মানুষের সম্রাট” নামে অনুবাদ করেছেন যায়নুদ্দিন সানী এবং প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনী ‘দিব্য প্রকাশ’।
মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খান ইতিহাসে বৃহত্তম সাম্রাজ্যর প্রতিষ্ঠাতা। চেঙ্গিস খান তাঁর দুর্ধর্ষ রণকৌশল আর শাসক হিসেবে জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকটা জয় করে ফেলেছিলেন আজ থেকে প্রায় সাতশ বছর আগে। মঙ্গোলিয় মালভূমির যাযাবর গোত্র ঐক্যবদ্ধ করার পর মধ্য এশিয়া এবং চীন এর বিশাল অংশ দখল করে নেয় এমনকি তাঁর সাম্রাজ্য আরও প্রসারিত হয়ে পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিরিয়া ও কোরিয়া ছাড়িয়ে যায়। তিনি তাঁর প্রজাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সামজিক নিরাপত্তা, ন্যায় বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইয়াসা নামক আইন প্রণয়ন করেছিলেন। নির্যাতন এবং ধ্বংসের কারণ হয়েছিলেন শত্রু  গোত্রের; ধ্বংসযজ্ঞের পরিণাম এত ভয়াবহ হত যে কোন গোত্র বিলুপ্তির জন্য তা যথেষ্ট ছিল, তিনি তাঁর সময়ে লোকেদের বানিজ্যেও উৎসাহিত করেছেন।
বাল্যকালে তেমুজিন; পরে চেঙ্গিস খান। আধুনিক মঙ্গোলিয়া এবং সাইবেরিয়া মধ্যবর্তী এলাকা তথা গোবি মরুভূমি অঞ্চলে এক উপজাতীয় গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন মঙ্গোল গোত্র প্রধান। তার মা তার পিতা দ্বারা অপহৃত হয়েই বিয়ে করতে বাধ্য হয় । সময়টাই ছিল এমন যাযাবর উপজাতিদের গোত্রে গোত্রে বিবাদ এবং সংঘর্ষ একটি সাধারণ ঘটনা। ক্রমাগত যুদ্ধ এবং একে অপরের থেকে সম্পদ, খাদ্য, গবাদি পশু সহ প্রয়োজনীয় বস্তু  চুরি অথবা লুটপাট করেই নিজেদের তথা গোত্রের সমৃদ্ধি ও বীরত্বকে সমুজ্জ্বল করত। ফলে তেমুজিনের জীবনও হিংস্রতার চর্চার মধ্য দিয়েই শুরু। বিষ প্রয়োগে শত্রু দ্বারা পিতার মৃত্যুর পর দশ বছর বয়সেই তাকে পরিবারের দেখাশোনার ভার নিতে হয়েছিল। চেঙ্গিস খানের শৈশব সম্পর্কে বেশিরভাগ জানা যায় মঙ্গোলিয় ইতিহাস ও সাহিত্য থেকে।
চেঙ্গিস খানের সর্বপ্রাণবাদীতার কারণে তাঁর অনুসারীদের মধে খ্রিস্টান, মুসলমান ও বৌদ্ধ সহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অন্তর্ভুক্তি ছিল। তিনি তাঁর সাহস ও যুদ্ধ কৌশলের মাধ্যমে সব প্রতিদ্বন্দ্বী ও শত্রুদের পরাজিত করেছিলেন এবং শাসক হিসেবে তাঁর অনবদ্য কর্মযজ্ঞ এবং প্রজাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার জন্যই তিনি চেঙ্গিস খান বা সার্বজনীন শাসক বা সব মানুষের সম্রাট নামের অধিকারী হয়েছিলেন। কয়েক শতকের ইতিহাসে চেঙ্গিস খানই সর্বপ্রথম তুর্কি-মঙ্গোল জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে সেই জনগোষ্ঠীর চেঙ্গিস খানের প্রতি বিশ্বাসের জায়গা এতটা দৃঢ় হয়েছিল যে তারা চেঙ্গিস খানকে ঈশ্বরের পাঠানো বীর হিসেবে স্বীকার করত এবং তারা বিশ্বাস করত যে তাঁর উপর রয়েছে স্বর্গশক্তি তথা স্বয়ং ঈশ্বরের আশীর্বাদ। চেঙ্গিস খান প্রতিনিয়ত সংঘর্ষে লিপ্ত অবাধ্য জাতিগোষ্ঠীকে এক করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং পরিকল্পনা মাফিক রহস্যময় উঘুইর, বিশ্বস্ত কারাইত, রুক্ষ ইক্কা মঙ্গোল, ভয়ঙ্কর তাতার, মেরকিট, তুন্দ্রা জনগোষ্ঠী এবং শিকারিদের একীভূত করে বিশাল এক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেন, যার নেতা হয়েছিলেন তিনি নিজে।
চেঙ্গিস খান চীনা রাজ্যের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালে মারা যান। রণকৌশলের কারণে তাঁর অনুসারীদের কাছে মৃত্যু সংবাদ গোপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি এবং তাঁর মৃত্যুর পরও স্বাভাবিক নিয়মেই যুদ্ধ হয়েছিল। ধারণা করা হয় তাঁর প্রিয় কোন অরণ্যে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছে যা আজ অবধি রহস্য; তাই পৃথিবীর কাছে তাঁর  তার চিরনিদ্রার স্থান অজানাই রয়ে গেছে ।
সমগ্র বইটি চারটি পর্বে বিভক্ত। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুসরণ করে এবং সময় উল্লেখ পূর্বক বইটিতে হ্যারল্ড ল্যাম্ব চেঙ্গিস খানের যুদ্ধ বিগ্রহ, বীরত্ব গাঁথা ও শাসন চিত্রায়ন করেছেন। যা অনুসন্ধিৎসু ও ইতিহাস পিপাসু পাঠককুলের কাছে সমাদৃত হওয়ার প্রধান কারণ। অনুবাদ গ্রন্থটিতে অনুবাদক যায়নুদ্দিন সানী অত্যন্ত দক্ষতা ও যত্নের সাথে শব্দের প্রয়োগ ও বাক্য বিন্যাস করেছেন ফলে সহজ সরল ও প্রাঞ্জল ভাবে একটি ভিনদেশী ভাষার বই বাংলা ভাষার পাঠকদের পিপাসা নিবারনের সহায়ক হবে। তবে বর্ণনায় আরও উৎকর্ষতা প্রত্যাশিত যার মাধ্যমে পাঠকের আগ্রহকে ধরে রাখা সক্ষম। বানান জনিত ত্রুটি নেই বললেই চলে যা প্রশংসনীয়।  প্রচ্ছদ করেছেন স্বনামধন্য প্রচ্ছদশিল্পি ধ্রুব এষ। মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান যেহেতু মূল চরিত্র সেই অর্থে প্রচ্ছদটি যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক এবং নান্দনিক। সর্বোপরি বইটির বাঁধাই, এবং আকারের ক্ষেত্রে দিব্য প্রকাশ প্রকাশনী যথেষ্ট মনযোগী ছিল।

শেষ কথাটি যাও বলে

‘শেষ কথাটি যাও বলে’ – মোজাম্মেল হক নিয়োগী
স্বরবৃত্ত প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে মোজাম্মেল হক নিয়োগী’র উপন্যাস ‘শেষ কথাটি যাও বলে’ । কী শেষ কথা? কে বলবে? দক্ষিণ ভারতের অধরা? নাকি বাংলাদেশের নির্ঝর? বাংলাদেশ আর ভারতের নোম্যান’স ল্যান্ডে দু’জন দাঁড়িয়ে আছে খুব কাছাকাছি। লেখক বলেছেন, এতটা কাছাকাছি আর কখনও তারা হয়নি।  তবু লেখক অব্যক্ত, অপরিমেয় পরিমিতবোধের মধ্যে থেকে অধরা আর নির্ঝরকে অকাঙ্ক্ষাকিত কোনো ঘটনায় না টেনে পরিপক্ক মুন্সিয়ারা দেখিয়েছেন। লেখক মোজাম্মেল হক নিয়োগী একটি সার্থক মিষ্টি প্রেমের উপন্যাস লিখেছেন বলে আমি দাবি করি।  এই উপন্যাসের মাধ্যমে ভারতবর্ষের অনেক ঐতিহাসিক জায়গার সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায় যা পাঠককে মনে হবে ভ্রমণ কাহিনী পড়ছি।  প্রতিটি পরিচ্ছদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি ভাষার কবিতার স্তবক নির্বাচন করা এবং নিজেরও কবিতা দিয়ে মাধুর্যময় করে তুলেছেন ।

তরুন জেলে ও তার আত্মা

তরুন মৎস্যশিকারী সর্বশক্তি দিয়ে জাল টানতে থাকে। জালের দড়ি টেনে টেনে সে বাহুতে পেঁচাতে থাকে। তার বাহুর শিরা ফুলে ওঠে। দড়ি টেনে সে জালের বেড় ছোট করে আনে । জালের চক্র ছোট হয়ে ক্রমেই কাছে আসতে থাকে। একসময় জালটাকে  সে টেনে তুলতে সক্ষম হয়।কিন্তু জালটাকে তুলে দেখা গেল তাতে আদৌ কোন মাছ নেই, আর না আছে তাতে কোন সাগরদানো বা ভৌতিক কোন কিছু । তবে ছোট্ট একটা মৎস্যকন্যাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল।
…মৎস্যকন্যা যখন দেখল যে তার আর পালাবার উপায় নেই তখন সে বললো, “আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, আমাকে ছেড়ে দাও। কেননা …আমার বাবা বৃদ্ধ এবং নি:সঙ্গ ।” তরুন জেলে বলল,”আমাকে কথা দাও,যখন আমি তোমাকে ডাকব তখন তুমি আমার জন্য গান গাবে। তোমার কন্ঠে সমুদ্রের গাঁথা  শুনে মাছেমাছে আমার জাল ভরে যাবে।” জেলের ইচ্ছে মতন মৎস্যকন্যাটি রাজি হয় …। তারপর জেলে মৎস্যকন্যাকে বাহু থেকে মুক্ত করে পানিতে ছেড়ে দেয় । মৎস্য কন্যাটি ভয়ে  কাঁপতে কাঁপতে পানিতে ডুব দেয়।
একদিন তরুন জেলে মৎস্যকন্যাকে বলে- ‌শোনো , ছোট মৎস্যকন্যা, আমি তোমাকে ভালবাসি, আমার ভালবাসার স্বীকৃতি স্বরূপ তুমি আমাকে তোমার বর করে নাও ।’ কিন্তু মাছমেয়েটা মাথা নেড়ে বলল-‘তোমার দেহে  একটা মানব আত্মা রয়েছে। যদি তুমি ওটা ত্যাগ করতে পারো তবে আমি তোমাকে ভালবাসতে পারি।’ তখন তরুন জেলে বলে -‘আমার আত্মা আমার কী এমন কাজে লাগে? আমি তো তাকে দেখতে পাই না, ছুঁতেও পারি না। আমি তাকে জানি না। তারপর তরুন জেলে আনন্দে চিৎকার করে নৌকার ওপর তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে আর দু’বাহু বাড়িয়ে ছোট্ট মৎস্য কন্যাকে বলে-‘আমি আমার আত্মাকে ত্যাগ করব। তুমি হবে আমার কনে আমি হবো তোমার বর। আমরা দু’জনে অথই সাগরে ঘর বাধবো। তুমি যেমন তোমার গান আমাকে শুনিয়েছ তেমনি তোমার যা কিছু প্রিয়তম ও পছন্দের আমি  তার সব  করবো, না হলে আমাদের জীবন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’
ছোট্ট মৎস্যকন্যা তরুন জেলের কথা শুনে খুশিতে হেসে উঠে আর লজ্জায় সে তার দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেলে ।
অস্কার ওয়াইল্ডের রূপকথা `The Fisherman And His Soul’ আগে কখনো বাংলায় হয়েছে কি না জানা নেই । যদি না হয়ে থাকে তো আমাদের কিশোর পাঠকদের জন্য শেখ মনিরুল হকের প্রথম চেষ্টাটি দারুন বলতেই হবে । বইমেলায় মহাকাল  প্রকাশনীর স্বনামধন্য প্রকাশক মো. মনিরুজ্জামান  অনুবাদটি প্রকাশ করেছেন। বইটি পাওয়া যাবে, মহাকাল প্রকাশনীর. ১৭৬ নং স্টল।

বই             : তরুন জেলে ও তার আত্মা
মূল            :  অস্কার ওয়াইল্ড
অনুবাদ      : শেখ মনিরুল হক
প্রকাশক      : মো. মনিরুজ্জামান, মহাকাল প্রকাশনী ।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্প

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যসৃষ্টি রবীন্দ্রবিদূষণের অসঙ্গত আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি, এ বিষয়ে তাঁর ছবির ভাগ্য অনেক বেশি মন্দ । অন্যদিকে তাঁর ছবির চরিত্র নিয়েও নানা মুনির নানা মত । কারো মতো তিনি অভিব্যক্তিবাদী, ক্বচিত কারো ভাষ্যে প্রতিবাদী । বিশিষ্ট কারো ভাষ্যে তিনি ছবি আঁকায় বিমূর্তবাদী বা নব্য প্রাচীনতাবাদী ( নিও প্রিমিটিজম ) ।
উইলিয়াম আর্চার বা কুমারস্বামী থেকে মূলকরাজ আনন্দের মতো বহুজনার বিচিত্র মন্তব্যে রবীন্দ্রচিত্রকলা জটিল বিতর্কে বিদ্ধ । রবীন্দ্রচিত্রের কোনো কোনো ফর্মে চিত্ররসিক কেউ দেখেছেন তাঁর অবদমিত বাসনার প্রতিফলন, কেউ বা দেখেছেন আদিমচেতনা বা স্বত:স্ফূর্ত শিশু সারল্যের প্রকাশ । রবীন্দ্রনাথ লাল রঙ দেখতে পেতেন না -তাই নিয়ে কেতকী কুশারী ডাইসন ও সুশোভন অধিকারী উচ্চগ্রামে বিতর্ক তুলেছেন । তেমনি রেখা ও রঙের প্রাধান্য নিয়েও চলেছে বিতর্ক ।
এসব বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের ছবি আঁকার উৎস, সূচনা ও চরিত্র নিয়ে আলোচনা রয়েছে এ বইতে এবং তা বিশ্বচিত্রকলার অতি সংক্ষেপিত ইতিহাসের পটভূমিতে । ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম প্রাবন্ধিক, কবি ও কলামিষ্ট হিসাবে খ্যাত আহমদ রফিক বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম একজন সংগঠক । রবীন্দ্র গবেষক মানুষটি বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা । সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য অসংখ্য পুরস্কারের পাশাপাশি ১৯৯৫ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক আর কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে পেয়েছেন ‘রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য ‘ উপাধি ও স্বদেশে রবীন্দ্র পুরস্কার (১৪১৮ বঙ্গাব্দ) । পাঠক এই বইতে তাঁর লেখায় রবীন্দ্রচিত্রকলার স্বরূপ সম্বন্ধে নির্দিষ্ট ধারণা পাবেন । বুঝে নিতে পারবেন রবীন্দ্রচিত্র-সৃষ্টি রবীন্দ্র ঘরানারই অন্তর্ভুক্ত ।

প্রকাশক   : আফজাল হোসেন , অনিন্দ্য প্রকাশ ,৩৮/৪ বাংলাবাজার , ঢাকা ১১০০
প্রচ্ছদ      : ধ্রুব এষ
মূল্য।       : ২২৫ টাকা ।

স্মৃতিখণ্ড মুজিবনগর

‘স্মৃতিখণ্ড মুজিবনগর’ কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্মৃতিকথা । বাংলাদেশের সেই সময়কার মানুষজন স্বাধীনতা যুদ্ধের জ্বালা-যন্ত্রনা কোনো দিন ভুলতে পারবে না । আর পরবর্তী প্রজন্ম সে-কথা জানবে তাদের পূর্ব প্রজন্মের মুখ থেকে । তাই এই দিনলিপির গুরুত্ব সব সময় থেকে যাবে । এতে দেশের ইতিহাস ও ব্যক্তি-মানুষের ইতিবৃত্তও পাওয়া যায় ।
শওকত ওসমান এই দিনলিপিতে শুধু যে দৈনন্দিন ঘটনার নথি তৈরি করেছেন তা নয় , মাঝে মাঝে উঠে এসেছে ইতিহাসের খণ্ড খণ্ড ব্যাখ্যা । এছাড়া আছে তাঁর জীবন-দর্শনের অনেক দিগরেখা । দিনলিপি পাঠে পাঠক যত এগিয়ে যাবে তত বুঝতে পারবে বাংলাদেশের জন্ম কেমন করে এগিয়ে আসছে । দিনলিপির প্রতিটি দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক একটি দিন । মুক্তিযুদ্ধের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই দিনলিপিটি একটা বড় ভূমিকা নেবে ইতিহাসের মাল-মসলা সরবরাহে ও বর্তমান প্রজন্মের মানসকে সচেতন করতে । শওকত ওসমানের লেখার মুন্সিয়ানার কারনে বইটি একবার পড়তে শুরু করলে ছাড়তে পারবে না পাঠক ।

প্রকাশক    : ফরিদ আহমেদ, সময় প্রকাশন, ৩৮/২ক বাংলাবাজার ঢাকা ।
প্রচ্ছদ       : নওসাবা ডালিয়া
মূল্য         :  ২০০ টাকা

সোনার বাঙলার রূপালী কথা

পিনাকী ভট্টাচার্য

বাঙলা আর বাঙালীর ইতিহাস বিচিত্র আর বহুবর্ণ। এই জাতির গড়ে ওঠার নানা পর্যায়ে আছে উত্থান-পতন, গৌরব-গর্ব আর লাঞ্চনা- অপমানের নানা ঘটনা। আজকের বাঙালীর দুর্দশার জন্য তার উপর চলা অবিচার আর অত্যাচারের একটা ভূমিকা আছে। কিশোর-তরুণদের উপযোগী করে লেখা এই বইটিতে বাঙলার সেই বহুবর্ণ ইতিহাসের একটা অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে পিতা আর পুত্রের কথোপকথনের মাধ্যমে। চেপে রাখা অনেক ইতিহাসের জীর্ণ হয়ে যাওয়া দলিল-দস্তাবেজ থেকে প্রকৃত ইতিহাসকে বের করে আনার প্রয়াসের কারনে লেখক সাধুবাদ পাবেন নিশ্চিত ।এখানে বাঙলা বলতে অবিভক্ত বৃহৎ বঙ্গকে বোঝানো হয়েছে। এই গ্রন্থ আগামী প্রজন্মের কাছে বাঙালীর ইতিহাসের এক নতুন দিক উন্মোচন করবে নিঃসন্দেহে।

প্রকাশক    : বাতিঘর
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: সাইলেনটেক্সট
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৬
বইয়ের ধরণ: ছোটদের বই
মূল্য: ২২৫ টাকা।