দস্তইয়েভস্কির, নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড

মহিমান্বিত বেদনার ভাষ্য, দস্তইয়েভস্কির ‘নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড’
জাহেদ সরওয়ার

 

‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ শব্দটা বৈপ্লবিক। আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথে জড়িত বিষয়াষয়  বৈপ্লবিক কর্মকান্ড  বোঝায়। যেমন আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিক্স, আন্ডারগ্রাউন্ড সিনেমা, আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্য ইত্যাদি। বৈপ্লবিক বা সমকালীন ব্যবস্থা বা দু:শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানরত সমস্ত শিল্প সাহিত্য চিন্তা সবকিছু এই নাম দিয়ে আখ্যায়িত হবার চল আছে। ফলে কোন বইয়ের যখন নাম হয় ‘ নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড’।

তখন আমরা সেটাকেও প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে থাকা কোন লেখকের বই হিসাবে সন্দেহ পোষণ করতে পারি। দস্তইয়েভস্কি রচিত ‘ নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড’ বইটি মোটামুটি পাঠকনন্দিত বই। বইটিকে নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে তকমা দেয়া যায় না। উপন্যাসের সমস্ত লক্ষণ থাকার পরও প্রশ্ন জাগে এইটাকে কি আসলে উপন্যাস? দর্শনের বই? তেমনি বইটাকে হয়তো প্রবন্ধের আওতায়ও ফেলা যায় না অথবা উপন্যাস দর্শন ও প্রবন্ধও বলা যায় একসাথে।

 

ফরাসি চলচ্চিত্রকার গদার একবার বলেছিলেন, তিনি ক্যামেরা দিয়ে প্রবন্ধ লেখেন। সেভাবে দেখতে  গেলে দস্তইয়েভস্কির এই বইটি সম্পর্কেও এই কথা খাটে যে তিনি উপন্যাসের  মোড়কে প্রবন্ধ বা দর্শন লেখেন অথবা প্রবন্ধাকারে উপন্যাস লেখেন।  যদিও দস্তইয়েভস্কির সব বই সম্পর্কে এই সিদ্ধান্ত চলে না। এই ধারার  লেখাগুলোকে ফরাসিরা নাম দিয়েছিলো ‘নতুন উপন্যাস’।

যেমন লুইজি বাত্তোলিনির ‘সাইকেল চোর’ বা মারগুরিত দ্যুরাসের ‘লামঁ’ ইত্যাদি।

বইটায় সার্বিকভাবে একজন ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ (ইচ্ছে করেই এখানে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটা ব্যবহার করা হচ্ছে না। কারণ ইংরাজি ইন্টেলেকচুয়াল শব্দটা যা দাবি করে বাংলা বুদ্ধিজীবী শব্দটা তা বহন করতে অক্ষম। বুদ্ধিজীবী ( যে বুদ্ধিকে জীবিকা করে) অধিক ক্ষেত্রে যা পেশাদারিত্বমূলক শব্দ। ইন্টেলেকচুয়াল ব্যক্তি বলতে তিনি কোন  পেশাদার লেখক নন। তিনি খানিকটা নিজের দায়িত্ববোধ থেকে, স্বগরজে মানবজাতির চিন্তা করেন। সে ক্ষেত্রে তাকে বাংলায় ‘বিদ্বৎজন’ বলার প্রস্তাব করা যায়।) ব্যক্তি, যে আত্মচরিত্রের বর্ণনার মধ্যে দিয়ে নিজেকে অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের থেকে আলাদা করার প্রয়াস চালায়। তিনি যেমন নিজেকে আলাদা ভাবেন। তেমনি তিনি দেখেন তিনি প্রচলিত সমাজে একেবারেই সামাজিক অবস্থানহীন এক ব্যক্তি যার অবস্থান সম্পর্কে সমাজের কোন মাথব্যাথা নাই। অলিখিতভাবে তিনি প্রচলিত সমাজের এক মূর্তিমান সমস্যা।

দস্তইয়েভস্কি বইয়ের শুরুতেই বয়ান করেন মেধাবী মানুষ শেষ পর্যন্ত ঐকান্তিকভাবে কিছুই হয়ে উঠতে পারে না, আর কিছু একটা হয়ে ওঠা নির্বোধের কম্ম। হ্যাঁ উনবিংশ শতাব্দীর মানুষকে অবশ্যই নৈতিকভাবে হতে হবে খাঁটি চরিত্রহীন প্রাণী। চরিত্রবান আর সৃজনশীল মানুষদের সীমাবদ্ধতা অসীম।’ ‘অতিশয় সচেতন হওয়া কিন্তু এক ধরনের অসুখ। দৈনন্দিন জীবনে মানুষের সাধারণ মানের মানবিক হলেই চলে যায়।

এভাবেই দৈনন্দিনতার সাথে, বন্ধুদের সাথে, সহকর্মীদের সাথে, সমাজের সাথে, রাষ্ট্রের সাথে, সভ্যতার সাথে একজন সত্যিকার অর্থে বিদ্ধৎজনের সংঘর্ষ শুরু হয়।

দস্তইয়েভস্কি বিদ্ধৎজনকে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ‘চেতনাগত মাত্রা’ দিয়ে আলাদা করেন। সবকিছু সম্পর্কে অতিশয় সচেতনতাকে তিনি একপ্রকার অসুখ বলে মস্করা করেন। অতিরিক্ত চেতনাকে তিনি বিনষ্টির শেষ সীমা বলে মস্করা করেন। কারণ পুঁজিবাদই জগতের নিয়ন্তা। পুঁজিবাদ সংস্কৃতিক নৈতিকতার ধার ধারে না। দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতা ও অর্থবলই তার সহায় ও চালিকাশক্তি। মুনাফাই একমাত্র তার উচ্চাশা।

তিনি বলেন যার জন্য আমি কোনোভাবেই দায়ী নই, যা কেবলই প্রকৃতির ব্যাপার, তার জন্য নিজেকে অপরাধী ভাবাটা আমার কাছে রীতিমতো বিব্রতকর। বিশেষভাবে দায়ী কেন? চারপাশের অন্য মানুষদের তুলনায় আমি বেশি বুদ্ধিমান তাই?,

এই চেতনা যা মানুষের ভেতর জাগিয়ে তোলে ‘কাণ্ডজ্ঞান’।

যেখান থেকে উৎপন্ন হয় কর্তব্যবোধ। একেবারে ব্যক্তিলাভের বাইরে গিয়ে সে এমন একটা দায়িত্ববোধের কাছে দেনাদার। যার ভার তার উপর কেউ চাপিয়ে দেয় নাই।

‘সচেতন’ পরিচয় আলাদা করার জন্য তিনি বলেন, সচেতনতার প্রত্যক্ষ ফল হচ্ছে জড়তা। মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা আর কি! আবার বলছি, আবার জোর দিয়ে বলছি, সব ‘কর্মবীর’ কিংবা করিতকর্মা মানুষ সবসময় কাজে ডুবে থাকে, কারণ তারা নির্বোধ। বুঝিয়ে বলি, যাদের ধীশক্তি সীমিত তারা খুব দূরের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না: যে সমস্যা ঠিক কাঁধের ওপর এসে পড়েছে, সেটা সামাল দেয়াই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।’

বিদ্বৎজন যারা তারা হয়তো খুব করিতকর্মা নয়। শেয়ারবাজারে অধিক লাভের আশায় হয়তো তিনি বিনিয়োগ করেন না। হয়তো কালোবাজারি করে টাকা কামানোর ধান্ধাও তিনি করেন না। হয়তো এই সব নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক দলের তোষামোদকারী কোনো রাজনীতিকও নন তিনি। কিন্তু মানবজাতির সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক বা প্রজ্ঞাজনিত যে বিকাশ তিনি তার একজন পাহারাদার ও প্রতিনিধি। সারকথা সে এমন এক বিবেকের শ্রষ্টা যা অন্যায় করা আগে ও অন্যায় দেখার পরে নিজেকেই জর্জরিত করে প্রশ্নবানে। কিন্তু সভ্যতার নামে একটা সমাজ যখন মানুষের আদিম পাশবিক প্রবৃত্তির বেড়াজালে ঘুরপাক খেতে থাকে। তখন বিদ্বৎজন কি করতে পারে?

হায় রে ভাই নিজেকে আমার খুব বুদ্ধিমান মনে হয়, জানেন? কারণ সারাজীবন আমি নাপেরেছি কিছু শুরু করতে, না শেষ করতে। ধরে নিয়েছি আমি একজন মানুষ যার কাজ শুধু কথার ফানুস ওড়ানো। হয়তো বিরক্তির উদ্রেক করি, কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে সব বুদ্ধিমান মানুষের প্রত্যক্ষ এবং একমাত্র পেশা হচ্ছে কথার ফানুস ওড়ানো, তখন কী করার থাকে?’

অনেক বিদ্বৎজনই জগতে নিরন্তর মানুষের স্বভাব তার পরিবর্তনশীলতা তার অর্জন ও মানবিকতা নিয়ে কথা বলেছেন এখনো বলছেন কিন্তু যেন সবকিছু শুধু কথার ফুলঝুরি। যা মানবের প্রাণিসুলভ হিংস্রতার কোনো রকম হ্রাস করতে পারে না। আমরা কি বলব তাহলে ব্যর্থ বিদ্বৎজনদের এই চিৎকার প্রাণির আকাঙ্খার কাছে।

দস্তইয়ভস্কি সামগ্রীকভাবে মানুষের এই যে সাধারণ জীবনের ভেতর ঘুরপাক খাওয়া তার মূল হিসাবে ‘আকাঙ্খা’কে চিহিৃত করেন। আকাঙ্খা চিরন্তন। আকাঙ্খাই সুবিধা। আকাঙ্খা চিরপ্রবাহমান প্রাণিরক্তে। মূলত সে নিজের সুবিধা ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করতে পারেনা।

মানুষকে সৎ আর ভালো হবার তাগিদ দিয়ে তার স্বার্থ সম্পর্কে এত যে ব্যাখ্যা এসব যুক্তিবিদ্যার অনুশীলন ছাড়া আর কিছু নয়! সত্যি বলছি, সবই নিছক ন্যায়শাস্ত্রের বুলি! নিজের সুবিধা আর স্বার্থের পিছনে বংশপরম্পরায় মানুষের এই যে দৌড় আমার বুদ্ধিতে এর আসল কারণ বার্কলের ভাষ্য অনুযায়ী সেই বাস্তব ব্যাপারটা যার মূল কথা হচ্ছে: সভ্যতা বিকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের মন ক্রমেই নরম হয়েছে, রক্ততৃষ্ণা কমেছে, স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে মানুষ যুদ্ধের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। শাস্ত্রমতে মনে হতে পারে এটা তার যুক্তিরই ফসল। কিন্তু দেখুন তার যুক্তিতে স্থির থাকার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সত্যকে বিকৃত করতে, এমনকি ইন্দ্রিলব্ধ জ্ঞানকে পর্যন্ত অস্বীকার করতে প্রস্তুত। নিজের চারিদিকে তাকালে বুঝবেন। ঝর্ণাধারার মত রক্তপাত হচ্ছে কিন্তু সে এমন উল্লাসের সঙ্গে,  যেন রক্ত নয়, শ্যাম্পেনের ছড়াছড়ি। পুরো উনবিংশ শতাব্দীর কথা ধরুন যে সময়টা ছিল বার্কলের জীবনকাল। ধরুন না সবকালের মহানায়ক নেপোলিয়নের কথা। উত্তর আমেরিকার অবিনশ্বর ইউনিয়নের কথা বিবেচনা করুন। কিংবা ধরতে পারেন শ্লেসবিগহোলস্টেইনের কথা.. সভ্যতা আমাদের মধ্যে কতরকম নমনীয়তার সূচনা করেছে, বুঝতে পারবেন। আমার তো মনে হয় মানুষের মধ্যে নানান রকমের সূক্ষ অনুভূতিশীলতার জন্ম দেয়াই সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান। এই সব অতিসূক্ষ অনুভূতিশীলতা থেকেই সে এক সময় রক্তপাতের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পায়। লক্ষ্য করুন সবচেয়ে সভ্য মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে কুশলী নরঘাতকদের দেখা মেলে! এদের কাছে অ্যাটিলা বা স্তেঙ্কা রাৎসিন কিছুই না। কিন্তু তবু অ্যাটিলা বা রাৎসিনের তুলনায় এই সব ঘাতকদের যদি মানুষের সহনশীল মনে হয় তার কারণ এই যে, এদের সঙ্গে প্রায়ই আমাদের দেখা হয়। এরা অতি সাধারণ আর খুবই চেনাশোনা। আর মোটের ওপর সভ্যতা যদি মানুষের রক্ততৃষ্ণা নাও বাড়িয়ে থাকে, অন্তত সেই রক্ততৃষ্ণা আরও কুৎসিত, আরও দুঃসহ করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রাচীনকালে মানুষ রক্তপাতের ভিতরেই ন্যায়বিচার খুঁজে পেত; সচেতনভাবে যাকে প্রয়োজন মনে করত, খুন করে ফেলত। এখন আমরা মনে করি নরহত্যা অতি জঘন্য জিনিস। কিন্তু সেই জঘন্য জিনিসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি আগের চাইতেও বেশি তেজে।

ফলে উনিশ শতকের প্রথমার্ধের সেন্ট পিটার্সবুর্গের বসবাসকারী দস্তইয়েভস্কিকে বলতে হয়, আমাদের এই নিরানন্দ উনবিংশ শতাব্দীতে একজন সংস্কৃতবান মানুষের যতটা চেতনার শক্তি আছে তার অর্ধেকটা কিংবা সিকিভাগ থাকলেই কিন্তু চলে যায় ; বিশেষ করে সেইসব ভাগ্যহত মানুষদের, যাদের এই মহাপৃথিবীর সবচেয়ে বাস্তববাদী আর স্বার্থপর শহর পিটার্সবুর্গে বাস করতে হয়।

ফলে নিজের অবস্থান সনাক্ত করা যেমন একজন বিদ্বৎজনের পক্ষে প্রয়োজনীয় তেমনি সমকালীন বুদ্ধিজীবীদের চরিত্র বিশ্লেষণও জরুরী।

 

উপরোক্ত আলোচনা প্রতিক্রিয়া স্বরূপ দস্তইয়েভস্কি এই বইতে এমন কিছু চরিত্র সৃষ্টি করতে বাধ্য হন। দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে প্রথমটি জেনারেল জেভারকভ ও দ্বিতীয়টি বেশ্যা লিসা।

জেভারকভ বর্তমান সামরিক দুনিয়ার দৃষ্টান্ত। জেভারকভের বিদায় সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে এমন কিছু মানুষের সাথে কথকের পূণসম্পর্ক গড়ে উঠে যারা কিনা একসময় কথকেরই সহপাঠি ছিল। একই স্কুলে, একই রাষ্ট্রে, একই সময়ে বাস করেও সহপাঠি ও কথকের পথ একেবারেই আলাদা হয়ে গেছে। কারণ সহপাঠিরা অধিকাংশই বুদ্ধিজীবী। বুদ্ধিকে জীবীকা করে যারা ইতিমধ্যে সমাজে নিজেদের অবস্থান ও বিত্ত গড়ে তুলেছে। নতুন নতুন নারী শিকার আর নিজেদের অবস্থার ফসল ও তা দেখিয়ে বেড়ানো ছাড়া যেন তাদের জীবনে আর কোনো লক্ষ্য নাই। যাদের কাছে একটা দুর্বোধ্য সহপাঠি ছিল কথক। যাকে নিয়ে তাদের কোনো দিন কোনো আশা ছিলনা। এবং অনেক গুরুত্বের সাথে তাদের সঙ্গে মিশতে চেয়েও বার বার কিভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় কথক। কারণ আসলেই একজন বিদ্বজ্জনের পথ একেবারেই আলাদা। হয়তো তার লেখা তার কথা মানবজাতিরই পক্ষে কিন্তু তার কোনো প্রায়োগিক সত্তা নাই।

ফলে বেশ্যাবৃত্তি ছেড়ে দিতে পরামর্শ দেবার পর বেশ্যা লিসা যখন তার কাছে প্রতিকারের প্রার্থনায় ছুটে আসে তখনও সে অসহায়। তাকে বলতে হয়।

আমার চেয়ে অপমানিত, লাঞ্ছিত, দুর্ভাগ্যবান আর কে? তুমি আরও অপমান যোগ করলে। আরও লাঞ্ছনা দিলে। তোমার জন্য আরও বড় দুর্ভাগ্য বরণ করতে হবে আমাকে।

ফলে গণমানুষ এবং তাদের সস্তা সুখে ভুলিয়ে রাখা শাষক শ্রেণির এই সব খেলা যাদের চোখে অপরাধ। যারা এসব বিষয়ে সরব। রাষ্ট্র নিশ্বেষ করে দেয় দুইভাবে। এক সরাসরি তাদের শেষ করে দেয়া। অন্যটা হচ্ছে নীরবে নিশ্বেষিত হবার পথ প্রসস্ত করা। তাদের জন্য সমাজে কোনো অবস্থান তৈরির ক্ষেত্র বন্ধ করে দেয়া। ফলে একজন বিদ্ধৎজনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিজের হাতে নষ্ট করেছি জীবনের অনেক সম্ভাবনা, পরিবেশের চাওয়া পাওয়ার সঙ্গে মেলাতে পারি নি আত্মজিজ্ঞাসা, কীভাবে সত্যিকার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেছে নিয়েছি অন্তর্মূখী, নিঃসঙ্গ গুপ্তবাসের কুঠুরি, সেই দীর্ঘকাহিনী হয়তো আপনাদের ভালো লাগবে না।

ফলে দস্তইয়েভস্কির এই বইটা উপন্যাস, দর্শন বা প্রবন্ধের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন গুপ্ত বিপ্লবীর ইশতেহার হিসাবে।

 

Read/Download: Notes from the Underground

FULL AudioBook