এশিয়ার কবিতা

সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ :
সুরেশ রঞ্জন বসাক
প্রকাশক    : দিব্যপ্রকাশ
মূল্য          : ২২৫ টাকা

বিপুল এক মহাদেশ এশিয়া । আয়তনে, সম্পদে ও দারিদ্র্যে । পর্বত- সমূদ্র – মরুর মতো বিচিত্র এই মানুষগুলো, বিচিত্র এর হাজার হাজার বছরের কথ্য-লেখ্য সাহিত্যের ঐতিহ্য । ইউরোপ, আমেরিকা, এমন কি আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কবিতা অকবিতায় আমাদের কতো আগ্রহ, অথচ বাড়ির কাছের আরশি নগরটি যেন গেঁয়ো যোগী । কেমন লিখছেন এশীয় কবিরা ? তাঁরা কি আধুনিক, উত্তর আধুনিক নাকি প্রাগৈতিহাসিক ?
এশিয়ার সব দেশেই কি কবিতার চর্চা হয় ? হয় বটে, তবে তার উৎকর্ষ এক নয় । কোথাও কোথাও কবিতা এখনো চর্যাপদের যুগে । কোথাও ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ তো দূরের কথা, কোনো আন্তর্জাতিক ভাষায়ও অনূদিত হয়নি । বিশ্বায়নের যুগে তাদের কবিতা বস্তুত প্রত্নসামগ্রী । এর বিপরীতে অনেক দেশেই অসাধারণ কবিতা লেখা হচ্ছে । কবিরা লিখছেন বিশ্বমানের কবিতা ।
‘এশিয়ার কবিতা’ এ উপমহাদেশের উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য কবিতার অনুবাদ । অমৃতা প্রীতম, ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, নিশিওয়াকি জুনঝাবুরো কিংবা মাহমুদ দারবিশের মতো প্রবীনেরা যেমন আছেন, তেমনি আছেন লেন এনগুয়েন, গু চেং কিংবা অহিলা সাম্বামূর্তির মতো নবীন কবিরা । অভিজ্ঞতা ও অভিনবত্বের মেলবন্ধন । এশিয়ার কবিতাই বলে দেয়, আমাদের আরশি নগর অত্যুচ্চ না হলেও তুচ্ছ নয় ।

Advertisements

হোয়াইট মোগলস্

হোয়াইট মোগলস্ আবেগপূর্ণ প্রেমের একটি বিয়োগান্তক কাহিনী যা সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সীমারেখাকে অতিক্রম করেছে। জেমস অ্যাকিলিস কার্কপ্যাট্রিক ছিলেন হায়দরাবাদের নিজামের দরবারে নিয়োজিত ব্রিটিশ রেসিডেন্ট। এক অসাধারণ রূপসী কিশোরী কন্যা খায়র উন নিসার প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করেন। এ জন্য তাকে বহু বাধা-বিপত্তির মোকাবেলা করতে হয়েছিল। খায়র উন নিসা ছিলেন নিজামের দরবারে নিয়েজিত বক্‌শি (paymaster) বকর আলি খানের নাতিনি এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশধর। তিনি কেবল পর্দা প্রথায় বন্দী ছিলেন তা-ই নয়, অন্য একজন ওমরাহের বগদত্তাও ছিলেন। বিষয়টি হায়দরাবাদে ব্রিটিশদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছিল।
এটি প্রেম, প্রলোভন, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রেমিক-প্রেমিকার গোপন মিলন, প্রাসাদ চক্রান্ত, হারেমের রাজনীতি এবং পারিবারিক টানাপোড়নের এক অসাধারণ কাহিনী। শ্বেত মোগলরা ভারতীয় পোষাক ও রীতিনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় উপনিবেশিক শাসকরা বিব্রত হয়ে পড়েছিল। হায়দরাবাদে নিয়োজিত রেসিডেন্ট কার্কপ্যাট্রিকের আচরণে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে কয়েকবার তদন্তও করেছিল।
এই অঞ্চলে ব্রিটিশদের জন্য রাজনৈতিক বিষয়ে অত্যন্ত উপযোগী ও উদ্দেশ্য হাসিলের উৎপাদক ছিলেন কার্কপ্যাট্রিক। তিনি হায়দরাবাদের নিজামের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদন করেন। তিনি স্থানীয় ভাষা অনর্গল বলতে পারতেন। সুকৌশলে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অবশেষে তিনি ফরাসিদের এ অঞ্চল থেকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হন। ফলে কেলেঙ্কারী সত্ত্বেও তিনি তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি অনেক বেশিই এ দেশীয় বনে গিয়েছিলেন। এই দম্পতির পুত্র ও কন্যা তাদের দাদার সঙ্গে বসবাসের জন্য ইংল্যান্ড গমন করে। পরবর্তীতে পিতামাতার সংঙ্গে তাদের আর কখনো সাক্ষাৎ ঘটে নি।
উইলিয়াম ড্যালরিম্পল দীর্ঘ পাচঁ বছর অক্লান্ত গবেষণা করে এই হোয়াইট মোগলস্‌-এ অনেক অজানা ইতিহাস প্রকাশ করেছেন। তার গবেষণার বিস্তার ছিল ব্যাপক, খুটিঁনাটি বিষয়ে অতি যত্নশীল, অতি সতর্ক ও যথাযথ। এমনকি তিনি চরিত্রগুলির পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে বিভিন্ন মহাদেশ পাড়ি দিয়েছেন, জটিল ও বিস্ময়কর সংখ্যক নথি সংগ্রহ করেছেন, যা বহু যুগ আগে হারিয়ে যাওয়া ঘটনাবলীকে আলোকিত করার জ্বালানী সরবরাহ করেছে।

গ্রন্থ           : হোয়াইট মোগলস
মূল           : উইলিয়াম ড্যালরিম্পল
অনুবাদ     : তাহমিন আহমেদ
প্রকাশক      : শাহিনা বেগম, নুসরাত প্রকাশনী, ৩৮/২খ বাংলাবাজার, ঢাকা
প্রচ্ছদ         : নিয়াজ চৌধুরী তুলি
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৫
মূল্য           : ৪২০ টাকা

দুই বাংলার সমকালীন প্রেমের গল্প

অন্যের জন্য মন কেমন করার নাম ভালোলাগা। ভালোলাগা থেকে প্রেম-ভালোবাসা। আর প্রেম হচ্ছে শাশ্বত-সুন্দর একটি অভিধা। মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। ভালোবাসার সংজ্ঞা বিতর্ক, অনুমান এবং অন্তদর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রেম-ভালোবাসা প্রাণে-প্রাণে, কিংবা প্রাণে-বস্তুতে হয়। বস্তুতে-বস্তুতে প্রেম ভালোবাসার কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলত নর-নারীর প্রেমই যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। চিরন্তন প্রেমের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। আবেগতাড়িত করেছে। সাধারণ মানুষ থেকে রাজা-বাদশাদের মনেও প্রেমের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। প্রেমের ইতিহাস রচিত হয়েছে।
কবি-সাহিত্যিকদের এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কোনো পঙ্ক্তি লিখেননি। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশসহ প্রায় সকল লেখকের লেখায় চোখ বুলালে তা স্পষ্ট ফুটে ওঠে।
ভালোবাসা শ্রদ্ধা, আবেগ. সহানুভূতি, স্নেহ-বিশ্বাসের সমস্বরে তৈরি একটি অদৃশ্য বিষয়। আবার ভালোবাসার সাধারণ এবং বিপরীত ধারণার তুলনা করে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোবাসাকে জটিলভাবে বিবেচনায় আনা যায়। ধনাত্মক অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ভালোবাসাকে ঘৃণার বিপরীতে স্থান দেওয়া যায়। ভালোবাসায় যৌনকামনা কিংবা শারীরিক লিপ্সা একটা গৌণ বিষয়। এখানে মানবিক আবেগটাই মুখ্য। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী জৈবিকভাবে মস্তিষ্কের বিভিন্ন হরমোন ভালোবাসায় অনুভূত তৈরিতে সাহায্য করে । কিংবা ভালোবাসায় যখন ছেদ ঘটে, মনের অনুভূতিতে যখন তীর এসে আঘাত করে তখন কাব্য হয় বেদনার। ছায়া পড়ে বিষাদের।
সময়ের সাথে প্রেম-ভালোবাসার বাহ্যিক পরিবর্তন ঘটলেও আবেগ-অনুভূতি চিরন্তন।
দুই বাংলার সমকালীন প্রেমের গল্প গ্রন্থের শিরোনামে যা বিবেচনায় আনা হয়েছে, তা হলো লেখকদের সময়কে স্পর্শ করা। কেননা, প্রেমের কোনো কাল-আকাল নেই। পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এসবের রং পাল্টায় শুধু। ঢং পাল্টায় না।
সংগত কারণেই ব্যাখ্যা করা চলে, সমসাময়িককালে বাংলা সাহিত্যের যেসব লেখক প্রেম-ভালোবাসার গল্প লিখেছেন, তাদের লেখা নিয়েই এই সংকলন।
প্রকাশক    : প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, বাংলাপ্রকাশ

একজন আরজ আলী

একজন আরজ আলী

সমকালীন ব্যক্তিত্ব নিয়ে উপন্যাস লেখা দুরূহ তো বটেই, কখনো কখনো লেখকের জন্যে বিব্রতকরও বটে। কথাসাহিত্যে এই অ্যান্টি-হিরোর কালে বড়ো মাপের ব্যক্তিত্বকে নায়ক করে উপন্যাস লেখা ব্যতিক্রমধর্মী সাহসের কাজ। অ্যান্টিহিরোদের দুর্বলতা ও অবক্ষয়ের দৌরাত্মে হিরোরা শক্তি ও সাহস নিয়ে কাচুমাচু হয়ে থাকে। হাসনাত আবদুল হাইয়ের প্রেরণা মানুষের শক্তি, মানুষের ক্ষমতা ও মানুষের সাহস। প্রতিভাবান, শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব নিয়ে উপন্যাস লেখার উদ্যোগ হাসনাত আগেও নিয়েছেন এবং তাঁদের আবেগ ও প্রেরণা, স্বভাব, ভাবনা এবং ক্ষোভ ও বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার জন্যে উপন্যাসের প্রচলিত রীতির বাইরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে হাসনাত আলাপ করেন, দিনের পর দিন তাঁদের কথা শোনেন। তিনি নিজেও কথা বলেন, কেবল প্রশ্ন করা নয়, মতামত দেন, মন্তব্য করেন এবং এইসব সংলাপেই পাঠক আরজ আলীর সংশয়, তাঁর বিদ্যাচর্চা, সংকট, তাঁর লেখা, লেখা ছাপা, বই প্রকাশ, বইয়ের প্রচার প্রভৃতি বিষয়ে জানতে জানতে নায়ককে চিনতে পারেন। বলতে গেলে এইসব সংলাপের বিন্যাসেই গড়ে ওঠে উপন্যাস। – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
হাসনাত আবদুল হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু। এরপর সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। দীর্ঘ চব্বিশ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব থাকাকালীন ১৯৯৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থা থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু। তখন থেকে আজ অবধি প্রতিটি প্রধান পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ছোট গল্প ও উপন্যাস। এ পর্যন্ত কুড়িটি উপন্যাস, চারটি ভ্রমণ কাহিনী গ্রন্থ, একটি নাটক সংকলন এবং একটি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বই : নভেরা, সুলতান, ট্রাভেলগ, ইন্টারভিউ, সাফারী, সোয়ালো। অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, শেরে বাংলা পুরস্কার, স্যার জগদীশচন্দ্র পুরস্কার, মওলানা আকরম খাঁ পুরস্কার, এস এম সুলতান পুরস্কার, ড. ইবরাহিম পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৯৬)।

মায়াবৃক্ষের মায়াকথন

কামরুল ইসলাম।

নাহিদা আশরাফী’র গল্পগ্রন্থ ‘মায়াবৃক্ষ’।রহস্যময় জীবনের নানাপীড়ন, নাগরিক সমাজের অভিঘাত, স্নেহ-প্রেম-ভালবাসার বিচিত্র অনুষঙ্গ, জীবন যাপনের কোমল সৌন্দর্য , বিষাদের নিবিড় বৈপরীত্য যেন মানবিক উপলব্ধির গভীর প্রত্যয়ে গল্পের বিষয়সমূহে সন্নিবেশিত । অভিনবত্বের নিবিড় আনন্দ-উজ্জ্বল অভিজ্ঞতা সুপরিস্ফুট গল্পে,  এ যেন অর্ন্তজগত ও অর্ন্তজীবনের অনুভবে উপলব্ধির বৈচিত্রময় প্রকাশ ।

গল্পের বিন্যাস সমাজের সাথে পরিবারের সংযোগ ও বৈপরীত্যে জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা অতি নিপুণতায় শব্দের অনুষঙ্গে উপস্থাপিত ।  এ যেন গল্পকারের শিল্প প্রতিভা ও সৃষ্টির অনবদ্য প্রকাশ । ‘আমার লেখক হয়ে ওঠার গল্প’ সত্যিই শিল্প প্রতিভার অভূতপূর্ব উন্মেষকে তিনি  চিত্রায়িত করেছেন । পরীক্ষার সময় বাইরে সাদা সাদা  বকের প্রতি দৃষ্টিমুগ্ধ অনুভূতি গণিতের খাতায় ছড়া আকারে লিখে রাখার কোমল উজ্জ্বল সৃষ্টিশীলতা জীবনের মুহূর্তগুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে আছে । আর এই সৃজনশীলতার উদ্যমে বাবার অনুপ্রেরণা, মায়ের সাহিত্য অনুরাগ যেন পাথেয় ও আর্শীবাদ । তবু বাসনার অতৃপ্তি প্রতিমুহূর্ত প্রকৃতির বৈচিত্রের মতো ঐশ্বর্যময় করে তোলে তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে, কী কাব্যে, কী গল্পে, সর্বত্র ।

সমাজ ও পরিবার মিলেই রাষ্ট্র নামক ভূখণ্ডে ব্যক্তি মানুষের যাপিত জীবন, সেই জীবনে ‘অনুষঙ্গ পুরাণ,  একজন মিথ্যেবাদী মা ও তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক সন্তান , একটি অসমাপ্ত চিঠির গল্প, ডায়েরি, সহযাত্রী, হলুদ পাজ্ঞাবি, হাওলাদার সাহেবের বিশ টাকা, পার্সেল’ অভূতপূর্ব শৈল্পিক সংযোজন । ভিন্নতার মাত্রায় উদ্ভাসিত ‘এন্টিক’ নামক গল্পটি | অভিজাত বিপণীর বোতলজাত এন্টিক অদূর ভবিতব্যের দেশে পরিবেশ-প্রতিবেশকে প্রত্নতাত্ত্বিক অবয়বে বিজ্ঞানের ক্ষিপ্র সম্ভাবনায় উপস্থাপিত ।  আবার অন্যসব গল্পে পারিবারিক জীবনের কখনো সহজ সরল স্নেহ ভালবাসার চিত্র,  কখনো রাষ্ট্রের বৈষম্যজাত নাগরিক টানাপোড়েন, জীবনযুদ্ধ অতি নিঁখুতভাবে তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায় । গল্পের চরিত্রসৃজনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারী চরিত্র যেন গভীর মমতায় চিত্রায়িত । সেজন্যে দেখি রজ্ঞনা কিংবা রাহেলা, সুতপা, লক্ষ্মী, রাবু, দুলালের মা,  তহমিনা সমাজের নানা বৈচিত্র্যে, পরিবেশে স্বাতন্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে বাস্তব অনুষঙ্গে ফুটে ওঠে । চারপাশের চেনাজানা ঘটনার মাধ্যমে উপেক্ষিত নারীর জীবনকে প্রতিচিত্রায়িত করার কৌশল পাঠকের আগ্রহ সৃষ্টি করবে ।  একইভাবে কিশোর চরিত্র ও মায়ের নিবিড় অনুভূতি সহজাত প্রবৃত্তির পারঙ্গমে মায়াময় অনুভূতির তন্ময়তায় নিয়ে যাবে। পুরুষ আধিপত্য সমাজে নগর জীবনের ক্লেদ, চড়াই-উৎরাই পুরুষ চরিত্রে সার্থকভাবে রূপায়নের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই  পাঠককে অভিভূত করবে। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার জটিল নয়, বরং প্রচলিত শব্দের সুদক্ষ ব্যবহার ছোটগল্পে চমক সৃষ্টি করে এবং প্রকৃতির বর্ণিল ব্যবহার গল্পের চিত্রময়তার সৌন্দর্য আবহকে প্রফুল্ল দান করে । সূচনায় চকিত চমক, মধ্যে সহসা একমুখী তীব্র অনুভব, পরিণতি নাটকীয় – এ যেন তাঁর গল্পে ‘ শেষ হয়ে হইল না শেষ’-এর চিরন্তন অনুভূতি আলোকিত ব্যজ্ঞনায় পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে।  ‘মায়াবৃক্ষ’ গল্পগ্রন্থ সার্থকভাবে পাঠক সমাজে সমাদৃত হবে – এ প্রত্যাশা করা যায় ।

কোহেকাফের সলতা

কোহেকাফ নগর সেই মানব জাতির সূচনালগ্ন থেকে বিখ্যাত ৷ এখানে বসবাস করে জ্বীন-পরীসহ যাবতীয় অশরীরীরা ৷ সেখানে কোহেকাফ রাজার তত্ত্বাবধানে আছে এমন এক আজব চেরাগ যার সলতে জ্বলে দ্রাক্ষারসে, এবং যেটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হীরক ‘শাহিন হীরা’ র উপর স্থাপিত ৷ এর অগ্নিরশ্মি বাহারী ৷ এর মাধ্যমে তারা তাদের রূপ পরিবর্তন করে ৷ পারস্য সভ্যতা অবধি তাদের আধিপত্য ছিল পৃথিবীর বুকে, যার নিদর্শন এখনো বর্তমান ৷ সেই ভাবগুলোর টুকরো নিয়ে রচিত হয়েছে এ গ্রন্থের গল্পগুলো , যা পাঠককে দেবে অন্যরকম স্বাদ ৷

রায়ান নূর বর্তমান সময়ের একজন অন্যতম কবি ও কথাসাহিত্যিক  ৷ তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রপত্রিকায় কবিতা,গল্প,প্রবন্ধসহ গবেষণামূলক লেখালেখি করে পাঠকমহলের নজর কেড়েছেন ৷ তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত ৷ এছাড়াও তিনি তিনটি লিটলম্যাগের সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে আছেন ৷ ২০১৫ সালে প্রকাশিত তার সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ ‘ বেনসন সাহেবের বৈজ্ঞানিক কারখানা (গ্লোব লাইব্রেরী) ’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায় ৷ এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ তে বিভিন্ন আঙ্গিক আর প্রেক্ষাপটের আঠারোটি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘ কোহেকাফের সলতে ’ ৷
প্রকাশক   :  গ্লোব লাইব্রেরী
প্রচ্ছদ       :  আফসার নিজাম ৷
মূল্য         :   ১২০ টাকা ৷

ক্ষণচিন্তা, মজিদ মাহমুদ

গ্রন্থটির নামের মধ্যেই এর কিছুটা চরিত্র ধরা পড়েছে, অর্থাৎ এই রচনাগুলো যেমন অসম্ভব রকম ক্ষণকালীন, যা পুরোপুরি প্রকাশিত হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়; অপরদিকে হারিয়ে গিয়েও নিত্য-নতুনভাবে প্রকাশিত হতে থাকে; যেখানে ক্ষণকালীনতা ও ক্ষণজন্মার মধ্যে মূলত কোনো পার্থক্য থাকেনা । এই গদ্যগুলোর সঙ্গে কবিতার একটি সম্পর্ক রয়েছে ; লেখার আগের বা পরে এমন কোনো মহতচিন্তা কিংবা পরিকল্পনার কাঠামো বিস্তার ছাড়াই এগুলো রচিত হয়েছে ; ফলে গদ্য আর কবিতাকে এখানে পার্থক্য করা হয়নি ।এই রচনাগুলোকে লেখকের আত্ম-জীবনীর অংশও বলা যেতে পারে ,যে সময়গুলো প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে ,তারও কিছুটা এই বইতে ধরতে চাওয়া হয়েছে ।একই সঙ্গে এই রচনাগুলো তুচ্ছতার ভাষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে ; সকল চিন্তার তুচ্ছতা থেকে আরও তুচ্ছতার দিকে ধাবিত হয়েছে ।এই রচনাগুলোতে প্রতিষ্ঠিত কিছু তাত্ত্বিকতা ভেঙে নতুন প্রকল্প হাজির করা হয়েছে । এই বইটি পড়ে মনে হতেই পারে বাঙালি মানসে সমকালীন চিন্তার টানাপোড়েন নিয়েই হয়তো এখানে আলোচনা হয়েছে, অথবা চিন্তা নিয়ে দীনতার অবকাশ ছিলনা কোনোকালেই ।

প্রকাশক  :  দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ     :  মোস্তাফিজ কারিগর
মূল্য       :  ৪৪০ টাকা